নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে পুরোনো ফোনটি বিক্রি করার আগে কিছু জরুরি কাজ করে নেওয়া প্রয়োজন। স্মার্টফোনে শুধু ছবি, ভিডিও বা যোগাযোগের নম্বর থাকে না; এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে ব্যক্তিগত ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং অ্যাপ, পাসওয়ার্ড, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্ট। ফোন বিক্রির আগে সঠিক প্রস্তুতি না নিলে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার Google Account বা Apple Account সঠিকভাবে সরানো না হলে নতুন ক্রেতা ফোন চালু করার সময়ও সমস্যায় পড়তে পারেন।
তাই ফোন বিক্রির আগে শুধু দাম ঠিক করা বা ফোন পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়। এই গাইডে ফোন বিক্রির আগে করণীয় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, তথ্য সুরক্ষার উপায় এবং নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করার নিয়ম তুলে ধরা হলো।
১. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ নিন
ফোন বিক্রির আগে প্রথমেই প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ তৈরি করুন। ফোনে থাকা ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট, ডকুমেন্ট, নোট ও অন্যান্য ফাইল নতুন ফোনে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন:
Google Photos বা অন্য নির্ভরযোগ্য ক্লাউড স্টোরেজ।
Google Contacts বা ফোনের কন্টাক্ট ব্যাকআপ সুবিধা।
কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।
প্রয়োজন অনুযায়ী USB ড্রাইভ বা অন্য নিরাপদ স্টোরেজ।
ব্যাকআপ সম্পন্ন হওয়ার পর সম্ভব হলে অন্য ডিভাইস থেকে কিছু ফাইল খুলে দেখুন। এতে বুঝতে পারবেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না। মনে রাখবেন, ব্যাকআপ যাচাই করার আগে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করবেন না। রিসেট করলে ফোনে থাকা তথ্য মুছে যেতে পারে।
২. WhatsApp ও অন্যান্য অ্যাপের তথ্য সংরক্ষণ করুন
অনেকের ফোনে WhatsApp-এ গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন, ছবি, ভিডিও ও ডকুমেন্ট থাকে। একইভাবে অন্য মেসেজিং অ্যাপেও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকতে পারে। WhatsApp ব্যবহার করলে অ্যাপের Chat backup অপশন পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী Google Account বা iCloud-এ ব্যাকআপ নিন। নতুন ফোনে চ্যাট পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্ট ও নম্বর আপনার কাছে আছে কি না, সেটিও যাচাই করুন। অন্য অ্যাপের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ব্যাকআপ বা ডেটা স্থানান্তরের পদ্ধতি অনুসরণ করুন। সব অ্যাপের তথ্য একইভাবে সংরক্ষিত হয় না।
পরামর্শ: শুধু অ্যাপ ইনস্টল করলেই পুরোনো কথোপকথন ফিরে আসবে, এমন ধরে নেবেন না। প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা আগে নিশ্চিত করুন।
৩. Google Account বা Apple Account সরিয়ে ফেলুন
ফোন বিক্রির আগে নিজের Google Account বা Apple Account সঠিকভাবে সরানো গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে রিসেটের পর নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে নতুন ব্যবহারকারী ফোন সেটআপ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। Android ফোনে Settings-এর Accounts বা Passwords & accounts অংশে গিয়ে Google Account সরানোর অপশন পাওয়া যেতে পারে। ফোনের মডেল ও সফটওয়্যার অনুযায়ী মেনুর নাম ভিন্ন হতে পারে। iPhone বিক্রির আগে Apple Account থেকে সাইন আউট করুন এবং Find My ও Activation Lock-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো অবস্থাতেই ক্রেতাকে আপনার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দেবেন না। নিজের অ্যাকাউন্ট সরানোর কাজ নিজেই সম্পন্ন করুন।
৪. ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ পরীক্ষা করুন
স্মার্টফোনে ব্যাংকিং অ্যাপ, মোবাইল আর্থিক সেবা বা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এসব অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন ও ব্যক্তিগত তথ্য পরিচালিত হতে পারে। ফোন বিক্রির আগে:
ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করুন।
বিশ্বস্ত ডিভাইসের তালিকায় পুরোনো ফোন যুক্ত থাকলে তা সরানোর ব্যবস্থা করুন।
নতুন ফোনে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে প্রয়োজনীয় তথ্য নিজের কাছে রাখুন।
OTP, PIN ও পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না।
শুধু অ্যাপ আনইনস্টল করাকে সব ধরনের অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন করার সমতুল্য ভাববেন না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৫. ইমেইল, ব্রাউজার ও সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করুন
Gmail, Outlook বা অন্য ইমেইল অ্যাকাউন্ট ফোনে লগইন করা থাকলে সেগুলো বিক্রির আগে সঠিকভাবে সরিয়ে ফেলুন। ব্রাউজারে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড, কুকি ও লগইন সেশনও বিবেচনায় রাখতে হবে। Chrome বা অন্য ব্রাউজারে একাধিক অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে সেগুলো পরীক্ষা করুন। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করলে নতুন ডিভাইসে প্রবেশের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন। শুধু ব্রাউজারের হিস্ট্রি মুছে ফেললেই ফোনের সব ব্যক্তিগত তথ্য মুছে যায় না। তাই ব্যাকআপ ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ফোনের বিল্ট-ইন ফ্যাক্টরি রিসেট পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
৬. দুই ধাপের যাচাইকরণ ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করুন
কিছু অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময় SMS কোড, Authenticator অ্যাপ বা অন্য যাচাইকরণ পদ্ধতি প্রয়োজন হয়। আপনার পুরোনো ফোন যদি এসব কোড তৈরি বা গ্রহণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করুন। যেমন:
Authenticator অ্যাপ নতুন ফোনে স্থানান্তর করুন।
অ্যাকাউন্টের Recovery email ও ফোন নম্বর যাচাই করুন।
প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কোড নিরাপদ স্থানে রাখুন।
অন্য ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
এই কাজগুলো না করলে ফোন রিসেটের পর নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতেও সমস্যা হতে পারে।
৭. SIM কার্ড ও মেমোরি কার্ড খুলে নিন
ফোন বিক্রির আগে নিজের SIM কার্ড খুলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আপনার মোবাইল নম্বরের সঙ্গে ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং ও অন্যান্য অ্যাকাউন্টের যাচাইকরণ যুক্ত থাকতে পারে। ফোনে microSD মেমোরি কার্ড ব্যবহার করলে সেটিও খুলে নিন। কার্ডে ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট বা ব্যক্তিগত ফাইল থাকতে পারে। eSIM ব্যবহার করলে মোবাইল অপারেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি স্থানান্তর বা সরানোর ব্যবস্থা করুন। ফোন রিসেট করার পর eSIM-সংক্রান্ত বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরে নেবেন না।
৮. ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও ডকুমেন্টের ব্যাকআপ নিন
ফোনের গ্যালারিতে থাকা ছবি ও ভিডিও ছাড়াও Downloads, Documents এবং অন্যান্য ফোল্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ছবি, স্ক্রিনশট, PDF, পরিচয়সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ও কাজের ফাইলগুলো পরীক্ষা করুন। যে ফাইলগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে, সেগুলো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন। ফোনে Secure Folder বা ব্যক্তিগত ফাইল রাখার আলাদা ব্যবস্থা থাকলে সেটিও পরীক্ষা করুন। সব ফাইল আলাদাভাবে মুছে ফেলার চেয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাকআপ নিয়ে পরে সঠিক ফ্যাক্টরি রিসেট পদ্ধতি ব্যবহার করা সাধারণত বেশি সুবিধাজনক।
৯. ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করুন
ব্যাকআপ ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করুন। এতে ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ও ইনস্টল করা অ্যাপ সাধারণত মুছে যায় এবং ডিভাইসটি প্রাথমিক সেটআপ অবস্থায় ফিরে আসে। Android ফোনে সাধারণত Settings-এর System, General management বা Reset options অংশে ফ্যাক্টরি রিসেটের অপশন পাওয়া যায়। মডেলভেদে মেনুর নাম আলাদা হতে পারে। iPhone-এর ক্ষেত্রে Settings-এর General অংশে Transfer or Reset iPhone অপশন থেকে Erase All Content and Settings ব্যবহার করা যায়।
রিসেটের আগে সতর্কবার্তা ভালোভাবে পড়ুন। প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাকআপ না থাকলে রিসেটের পর তা হারিয়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, ফ্যাক্টরি রিসেট হলো ফোন বিক্রির আগে ব্যক্তিগত তথ্য সরানোর প্রচলিত পদ্ধতি। তবে সব ধরনের ডিভাইস ও পরিস্থিতিতে তথ্য পুনরুদ্ধার অসম্ভব—এমন শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। অতিরিক্ত সংবেদনশীল তথ্য থাকলে নির্মাতার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
১০. রিসেটের পর ফোন চালু করে পরীক্ষা করুন
ফোন রিসেট করার পর আবার চালু করুন। সাধারণত প্রাথমিক সেটআপ বা Welcome স্ক্রিন দেখা যাবে। এই পর্যায়ে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট আবার যুক্ত করবেন না। পরীক্ষা করুন, ফোনটি আগের মালিকের Google Account বা Apple Account চাইছে কি না। কোনো অ্যাক্টিভেশন লক বা অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে বিক্রির আগে তা সমাধান করুন। ফোনের টাচস্ক্রিন, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট ও Wi-Fi ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োজনে ক্রেতার সামনে সাধারণ ফিচারগুলো দেখিয়ে দিন।
১১. ফোনের অবস্থা ও বাজারদর যাচাই করুন
ফোন বিক্রি করে ভালো দাম পেতে হলে ডিভাইসের অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই মডেলের ব্যবহৃত ফোনের বাজারদর যাচাই করুন এবং নিজের ফোনের অবস্থা বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করুন। দাম নির্ধারণে সাধারণত যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে:
ফোনের মডেল ও স্টোরেজ।
ফোনের বয়স ও বাহ্যিক অবস্থা।
ব্যাটারির কার্যক্ষমতা।
স্ক্রিন, ক্যামেরা ও চার্জিং পোর্টের অবস্থা।
মেরামতের ইতিহাস বা পরিবর্তন করা যন্ত্রাংশ।
বক্স, চার্জার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস।
ফোনে কোনো সমস্যা থাকলে ক্রেতাকে আগেই জানিয়ে দিন। ত্রুটি লুকিয়ে বিক্রি করলে পরে বিরোধ তৈরি হতে পারে।
১২. IMEI ও ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে রাখুন
ফোন বিক্রির আগে প্রয়োজন হলে IMEI নম্বর, মডেল নম্বর এবং ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য নিজের রেকর্ডে রাখতে পারেন। ভবিষ্যতে বিক্রির তথ্য বা ডিভাইসের পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে এগুলো কাজে লাগতে পারে। তবে IMEI বা সিরিয়াল নম্বর প্রকাশ্যে পোস্ট করার প্রয়োজন নেই। ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার সময়ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিবেচনা করুন। ফোনের সঙ্গে ক্রয় রসিদ বা ওয়ারেন্টির কাগজ দিলে তাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে তুলে দেবেন না।
১৩. ফোন পরিষ্কার করে আনুষঙ্গিক জিনিস গুছিয়ে রাখুন
ফোন বিক্রির আগে নরম ও উপযুক্ত কাপড় দিয়ে স্ক্রিন ও বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত পানি বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না। ফোনের সঙ্গে চার্জার, কেবল, বক্স বা অন্য আনুষঙ্গিক জিনিস দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলো গুছিয়ে রাখুন। কোন জিনিসগুলো বিক্রির সঙ্গে দেওয়া হবে, তা ক্রেতাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। পরিষ্কার ফোন দেখতে ভালো লাগে এবং ক্রেতার কাছে ডিভাইসের অবস্থা বোঝানো সহজ হয়। তবে বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য ফোনের কোনো ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন না।
১৪. নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করে ফোন হস্তান্তর করুন
ফোন বিক্রির শেষ ধাপ হলো নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করা। অনলাইনে বা সরাসরি বিক্রি—যেভাবেই হোক, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সময় সতর্ক থাকুন। টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু SMS বা পেমেন্টের স্ক্রিনশট দেখে নিশ্চিত হবেন না। নিজের ব্যাংক বা আর্থিক সেবার অফিসিয়াল অ্যাপ খুলে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না যাচাই করুন। ফোন হস্তান্তরের আগে নিশ্চিত করুন:
ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে।
SIM ও মেমোরি কার্ড খুলে নেওয়া হয়েছে।
ফ্যাক্টরি রিসেট সম্পন্ন হয়েছে।
ফোনের অবস্থা ও ত্রুটি ক্রেতাকে জানানো হয়েছে।
পেমেন্ট সত্যিই পাওয়া গেছে।
ক্রেতাকে ফোন পরীক্ষা করতে দিতে পারেন, কিন্তু নিজের পাসওয়ার্ড, PIN বা OTP দেবেন না। ফোন বিক্রির পরও নিজের অ্যাকাউন্টে পুরোনো ডিভাইস যুক্ত আছে কি না, প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরীক্ষা করুন।
ফোন বিক্রির আগে তথ্য সুরক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ফোন বিক্রির আগে যা করা জরুরী পড়তে পারেন। এতে ফোন বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে আরও ধারণা পাবেন।
ফোন বিক্রির আগে দ্রুত চেকলিস্ট
ফোন হস্তান্তরের আগে নিচের তালিকাটি মিলিয়ে নিন:
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ নেওয়া হয়েছে।
WhatsApp ও অন্যান্য অ্যাপের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
দুই ধাপের যাচাইকরণ ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার পরীক্ষা করা হয়েছে।
Google Account বা Apple Account সঠিকভাবে সরানো হয়েছে।
ব্যাংকিং অ্যাপ ও বিশ্বস্ত ডিভাইসের সংযোগ পরীক্ষা করা হয়েছে।
SIM, মেমোরি কার্ড ও eSIM-এর ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।
ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করা হয়েছে।
রিসেটের পর প্রাথমিক সেটআপ স্ক্রিন পরীক্ষা করা হয়েছে।
ফোনের অবস্থা ও ত্রুটি ক্রেতাকে জানানো হয়েছে।
টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপসংহার
ফোন বিক্রির আগে এই ১৪টি কাজ সম্পন্ন করলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা, নতুন ক্রেতার সেটআপের সমস্যা কমানো এবং নিরাপদে লেনদেন সম্পন্ন করা সহজ হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ব্যাকআপ যাচাই না করে ফোন রিসেট না করা এবং অ্যাকাউন্ট, SIM ও মেমোরি কার্ডের বিষয়গুলো অবহেলা না করা। ফোনের অবস্থা সম্পর্কে সৎ থাকুন, নিরাপদ পদ্ধতিতে পেমেন্ট গ্রহণ করুন এবং গোপন পাসওয়ার্ড বা OTP কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। একটু সচেতন থাকলেই পুরোনো ফোন বিক্রির সময় অনেক অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
১০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
১. ফোন বিক্রি করার আগে প্রথমে কী করতে হবে?
প্রথমে ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট ও প্রয়োজনীয় ফাইলের ব্যাকআপ নিন। এরপর অ্যাকাউন্ট সরানো, SIM খুলে নেওয়া এবং ফ্যাক্টরি রিসেটের প্রস্তুতি নিন।
২. ফোন বিক্রির আগে ফ্যাক্টরি রিসেট করা কি জরুরি?
হ্যাঁ, ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফোনকে নতুন ব্যবহারকারীর জন্য প্রস্তুত করতে ফ্যাক্টরি রিসেট করা সাধারণত প্রয়োজনীয়। তবে রিসেটের আগে ব্যাকআপ ও অ্যাকাউন্টের বিষয়গুলো যাচাই করুন।
৩. শুধু ছবি ডিলিট করলে কি ফোন নিরাপদ হবে?
না। ফোনে অ্যাপের তথ্য, ইমেইল, ব্রাউজারের লগইন সেশন, ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে। তাই শুধু ছবি মুছে ফোন বিক্রি করা উচিত নয়।
৪. ফোন বিক্রির আগে Google Account সরানো কেন দরকার?
Android ফোনের Factory Reset Protection-এর কারণে পুরোনো অ্যাকাউন্টের যাচাইকরণ চাইতে পারে। তাই ফোন বিক্রির আগে সঠিক পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট সরানো জরুরি।
৫. ফোন বিক্রির আগে WhatsApp-এর চ্যাট কীভাবে সংরক্ষণ করব?
WhatsApp-এর Chat backup বা সমর্থিত ট্রান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করুন। নতুন ফোনে প্রয়োজনীয় চ্যাট পুনরুদ্ধার করা যাবে কি না নিশ্চিত হওয়ার আগে পুরোনো ফোন রিসেট করবেন না।
৬. SIM কার্ড ও মেমোরি কার্ড কি খুলে নিতে হবে?
হ্যাঁ। নিজের SIM কার্ড ও microSD মেমোরি কার্ড খুলে নিন। eSIM থাকলে অপারেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানান্তর বা সরানোর ব্যবস্থা করুন।
৭. ফোন রিসেট করলে কি সব ব্যক্তিগত তথ্য মুছে যায়?
ফ্যাক্টরি রিসেট ফোনের স্থানীয় স্টোরেজের ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার প্রচলিত পদ্ধতি। তবে সব পরিস্থিতিতে তথ্য পুনরুদ্ধার অসম্ভব—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
৮. ফোন বিক্রির আগে ব্যাংকিং অ্যাপ আনইনস্টল করলেই হবে?
শুধু আনইনস্টল করাই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন হলে পুরোনো ডিভাইসের অনুমোদন বাতিল করুন।
৯. ফোন বিক্রির সময় ক্রেতাকে কি পাসওয়ার্ড বা OTP দিতে হবে?
না। নিজের Google Account, Apple Account, ব্যাংকিং PIN, পাসওয়ার্ড বা OTP কখনো ক্রেতাকে দেবেন না।
১০. পুরোনো ফোনের দাম কীভাবে নির্ধারণ করব?
একই মডেলের ব্যবহৃত ফোনের বাজারদর যাচাই করুন। ফোনের বয়স, স্টোরেজ, ব্যাটারি, স্ক্রিন, মেরামতের ইতিহাস ও আনুষঙ্গিক জিনিস বিবেচনা করে দাম ঠিক করুন।
0 মন্তব্যসমূহ